নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের রাজপথ কাঁপানো সেই সাহসী কণ্ঠস্বর এবার প্রতিধ্বনিত হলো বিশ্বমঞ্চে। লন্ডনের ঐতিহ্যবাহী ও মর্যাদাপূর্ণ বিতর্ক সংগঠন ‘অক্সফোর্ড ইউনিয়ন’-এ দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের অধিকার, আকাঙ্ক্ষা ও সাম্যের কথা বলেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ।
এই অর্জনের পেছনে রয়েছে এক অদম্য লড়াইয়ের গল্প। হাসনাত আব্দুল্লাহর আরও একটি বড় গর্বের পরিচয়— তিনি একজন সাধারণ রাজমিস্ত্রির সন্তান। একজন সাধারণ শ্রমজীবী পরিবারের সন্তান থেকে শুরু করে নিজের যোগ্যতা, প্রজ্ঞা ও অসীম সাহসের জোরে আজ ইংল্যান্ডের মাটিতে দাঁড়িয়ে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন তিনি।
হাসনাত আব্দুল্লাহর এই বিশ্বমঞ্চে দাপুটে উপস্থিতি শুধু একজন ব্যক্তির অর্জন নয়; এটি বাংলাদেশের কোটি অগণিত সাধারণ ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানদের স্বপ্ন, সাহস ও সুপ্ত সম্ভাবনার এক জীবন্ত প্রতীক। রাজপথের তীব্র আন্দোলন থেকে উঠে আসা একজন ছাত্রনেতা যে কেবল নিজের মেধা, যোগ্যতা ও আত্মবিশ্বাসের ওপর ভর করে কত দূর যেতে পারেন— হাসনাত আব্দুল্লাহ বিশ্ব দরবারে তার একটি অনন্য এবং ঐতিহাসিক উদাহরণ সৃষ্টি করলেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই ঘটনা নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ তরুণ প্রজন্মকে নিজের স্বপ্নের প্রতি অবিচল থাকতে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করবে এবং বাংলাদেশের ইতিহাসে এক স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে।
হাসনাত আব্দুল্লাহর এই অর্জন দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে এক নতুন চিন্তার খোরাক জুগিয়েছে। সচেতন মহলের প্রত্যাশা— আগামীর বাংলাদেশে প্রতিটি বাংলাদেশপন্থী ও গণমুখী রাজনৈতিক দল থেকে ঠিক এমন নেতৃত্বের উত্থান হোক। যারা কোনো অভিজাততন্ত্র বা বংশমর্যাদার জোরে নয়, বরং একেবারে সাধারণ মানুষের মধ্য থেকে, মাটি ও মানুষের লড়াই থেকে উঠে আসবেন।
তারাই হবেন দেশের আপামর জনসাধারণের প্রকৃত কণ্ঠস্বর এবং বিশ্বমঞ্চে কোনো আপস ছাড়া, অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, মর্যাদা, স্বার্থ ও অধিকার তুলে ধরবেন।
সোশ্যাল মিডিয়া ও তরুণ সমাজের মাঝে হাসনাত আব্দুল্লাহর এই ঐতিহাসিক সাফল্যকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে। রাজমিস্ত্রির সেই গর্বিত সন্তানের হাত ধরে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকার এই গৌরবযাত্রাকে সাধুবাদ জানাচ্ছে সর্বস্তরের মানুষ।
মুহা.আব্দুল্লাহ আল মামুন 








